পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল

পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল

Rs150.00
Ex Tax: Rs150.00
Product Code: প্রীতম বসু
Availability: In Stock
Qty:
Enter pincode to check if Cash on Delivery is Available:

Check



প্রীতম বসুর 'পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল' ও 'ছিরিছাঁদ' এতদিনে প্রসিদ্ধিলাভ করেছে। প্রসিদ্ধিলাভ করেছে-- সেটা বড় কথা নয়। এই বই দু'খানা প্রকাশমাত্র হৈচৈ পড়ে যাবার কথা ছিল। বছর দুই সময় লাগল, সেটা একটু আশ্চর্য বটে। লেখক মারফৎ শুনেছি এক বিশিষ্ট বাণিজ্যিক পত্রিকা পঞ্চাননমঙ্গল-কে তাঁদের শারদীয়ায় স্থান দিতে ইতস্তত করছিলেন। উপন্যাসের আকার বড় এই অজুহাতে। নিশ্চই আয়তন কম করবার নির্দেশ ছিল। লেখক তাতে সম্মত হননি। সম্পাদক ধারাবাহিক প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বোধহয়। লেখক তাতেও রাজী না হয়ে নিজেই বইটি প্রকাশ করেছেন। ঠিক করেছেন। পঞ্চাননমঙ্গল খণ্ডে খণ্ডে আমি হয়তো পড়তামই না। আর পড়লে বোধহয় পাগল হয়ে যেতাম। 
এই বইটি আমি পড়েছিলাম একনাগাড়ে, এক দুঃসহ রেলযাত্রার মাঝে। যে ট্রেনটি আট ঘন্টা লেট করে রাত দেড়টার সময়ে আমাকে গন্তব্যে নামিয়েছিল। অন্য সময় হলে কী করতাম জানি না, সেইদিন ঐ বিলম্বের জন্যে আমি রেল কোম্পানিকে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। তাদের দাক্ষিণ্যে আমাকে বইখানা মাঝপথে বন্ধ করতে হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছলে আমাকে যা করতে হত। সে হোতো বড় কষ্টকর। ভারতীয় রেল আমাকে সে পীড়া থেকে রক্ষা করেছিল। আর বিলম্বিত রেলযাত্রার আনুসঙ্গিক পীড়া ভুলিয়ে দিয়েছিলেন প্রীতমবাবু।
আমি ভাবি, হায় রে পত্রিকার পোড়া কপাল! পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গলের পরিবর্তে নিশ্চই সেবছর কোনও একটি প্রেম-পরকীয়ার চর্বিত চর্বণ দিয়ে পাতা ভরানো হয়েছিল। ভাগ্যের পরিহাস দেখুন। কোন সে উপন্যাস, পাঠক তা কবেই বিস্মৃত হয়েছে। আর পঞ্চাননমঙ্গলের সাফল্য আজ পাঠকের উল্লাস, লেখকের শ্লাঘা ও সম্পাদক মহাশয়ের অনুশোচনার কারণ!
দেখে ভালো লাগছে, পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গলের দু'বছর আগে প্রকাশিত লেখকের 'ছিরিছাঁদ' বইটিও আজ পাঠকের প্রসাদ লাভ করেছে। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী আখ্যানদুটির মধ্যে কোথায় যেন একটা যোগসূত্র আছে। সেটা লেখার প্রসাদগুণ হতে পারে, বিষয়ের অভিনবত্ব হতে পারে আবার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসও হতে পারে। আমি আমার অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত জীবনে এমন উপাখ্যান আগে পড়িনি। ভবিষ্যতেও পাবো কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। অবশ্য প্রীতম বসু চাইলে সবই সম্ভব।
একটা কথা। আজকাল স্তাবকতার ছাপ্পা বড় সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও লেখা সম্পর্কে অন্তর থেকে উৎসারিত স্বতঃস্ফূর্ত প্রশস্তিকেও কিছু মানুষ ক্ষমা করেন না। লেখকও বড় কুণ্ঠিত বোধ করেন আমার অন্তরঙ্গ সত্যভাষণে। তাঁকে আশ্বস্ত করে বলি, আমি তাঁর স্তাবক নই। তাঁর লেখার অযথা প্রশস্তি গাইবার কোনও দায় আমার নেই। কিন্তু তিনি যতদিন পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল ও ছিরিছাঁদ-এর মতো লেখা উপহার দেবেন, আমি 'স্তাবক', 'ভাড়াটে প্রশস্তিকার' ইত্যাদি অভিধাগুলিকে স্বচ্ছন্দে উপেক্ষা করব। তাতে কিছু লোক অসুখী হলে আমি নিরুপায়। 
কিন্তু থাক সেসব কথা। এখন কাজের কথা বলি। উপরোক্ত স্বনামধন্য বই দু'খানার আগে লেখকের 'চতুরঙ্গ' নামে আর একখানা স্বপ্রকাশিত পুস্তিকাও কিন্তু আছে। অনেকেই সে খবর হয়তো জানেন না। চারখানা লঘু কাব্যনাট্যের সংকলন। পৌরাণিক কাহিনীর আধুনিক স্যাটায়ারধর্মী বিনির্মাণ। উৎকর্ষে পঞ্চাননমঙ্গল কিংবা ছিরিছাঁদের সমকক্ষ বলব না, কিন্তু অতি উপাদেয়। বস্তুত এমন ছন্দবদ্ধ ছদ্মগদ্য আজকাল কেই বা আর লেখেন। লিখলেও তাকে কতোখানি রসোত্তীর্ণ করা সম্ভব, প্রীতম বসুর চতুরঙ্গে তা দিখিয়ে দিতে পেরেছেন।
এছাড়াও লেখক কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যে একটি অভিনব লক্ষ্মীর পাঁচালীও লিখেছেন। তাতে 'লক্ষ্মী' শব্দটি ছাড়া আর কোনও যুক্তাক্ষর নেই!
আমি খুব বেশী বই কিনি না। আমার সংগ্রহে নেই অনেক বড় বড় নাম। পড়া নেই বিস্তর জনপ্রিয় লেখকের তথাকথিত ধ্রুপদী রচনা। সে সব জানতে পারলে প্রভূত বন্ধুবিচ্ছেদের সমূহ সম্ভাবনা।
কিন্তু আমার কাছে প্রীতম বসুর এই চারখানা বইই আছে। আমার জীবদ্দশায় উনি আরও যতগুলি বই লিখবেন, তাও থাকবে। প্রীতমবাবু, আশা করি মনে রাখবেন আমার কথা।
@
Surya Bhattacharyya
 

Write a review

Your Name:

Your Review:

Note: HTML is not translated!

Rating: Bad Good

Enter the code in the box below:

Related Products

Copyright © 2014 Dokandar Developed By Dipayan Biswas